সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

অপরিকল্পনার ঘেরাটোপে উন্নয়ন কাজ

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

অপরিকল্পনার ঘেরাটোপে নগরীর উন্নয়ন কাজ। সমন্বয় না থাকার কারণে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অপরদিকে ভোগান্তিতে পড়ছে জনগণ। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চলে আসলেও উত্তরণের উদ্যোগ নেই সরকারি কোন সংস্থারই। নগরীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ওয়াসা, সিডিএ, পিডিবি, বিটিসিএল, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। কিন্তু এসব সংস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় প্রতিটি সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সূত্রিতা, অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি, সময় ক্ষেপন, জনদুর্ভোগসহ বিভিন্ন সমস্যা লেগে থাকে। এতে ক্ষোভ বাড়ে জনগণের।

অভিযোগে জানা গেছে, নগরীতে কোন কোন সড়কের সংস্কার কাজ চসিক কিংবা সিডিএ শেষ করলে ওয়াসা অথবা বিটিসিএল এসে পুনরায় রাস্তা কাটা শুরু করে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী জনগণ সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়হীনতাকে দুষছেন বেশি। এর আরেকটি জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে নগরীর আরাকান সড়ক। শুধুমাত্র সমন্বয়হীনতার কারণে ৬ বছর ধরে বন্ধ এ সড়কের এক পাশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিডিএ ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় না থাকায় বহদ্দারহাট মোড় থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কে এ সমস্যা চলে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকামুখী র‌্যাম্প নির্মাণ, মদুনাঘাটস্থ শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প ও মোড়ে কালভার্টে আন্ডারক্রসিং পাইপলাইন, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্প এবং কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির পাইপলাইন বসাতে দফায় দফায় কাজ করার কারণে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এখনো পর্যন্ত আরাকান সড়কের একপাশ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সড়ক সংস্কার প্রকল্প কাজে সময় ক্ষেপনে যানবাহন শুরু করতে আরো বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে কয়েক মাস আগে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পুরাতন চান্দগাঁও থানা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজের জন্য খতিব বাড়ির সামনে থেকে চান্দগাঁও আবাসিকের এ ব্লকের মুখ পর্যন্ত যানবাহন চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়াসার মদুনাঘাট শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প নির্মাণের সময় ওয়াসাও মোড়ে কালভার্টে আন্ডারক্রসিং পাইপলাইন বসাতে চেয়েছিল। কিন্তু র‌্যাম্প নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়াসাকে সে সুযোগ দেয়নি। এর মধ্যে র‌্যাম্পের পাইলিং পিয়ার বসানোর কারণে ওয়াসার পূর্ব পরিকল্পিত এলাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। নতুন এলাইনমেন্ট করে বিদেশ থেকে মালামাল এনে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়।’

এদিকে সমন্বয়হীনতার আরেক নজির দেখা গেছে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে কালভার্ট নির্মাণে। এটি নির্মাণের আগে সবগুলো সমস্যা চিহ্নিত না করে কাজ শুরুর কারণে দেড় বছর সময় লেগে যায় কালভার্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে। এ কারণে ভোগান্তি বাড়ে জনগণের। সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এ কালভার্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ মাস। কিন্তু কালভার্টটির নিচে ওয়াসা, বিটিসিএল ও গ্যাসের সংযোগ দ্রুত সরানো গেলেও জাইকার একটি পাইপ নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে পাইপটির ড্রইং-ডিজাইন পরিবর্তন করে কাজ শেষ করতে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর। এভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজে সমস্যা লেগে আছে।

সমন্বয়হীনতা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্ধসঢ়; দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীর উন্নয়নে যেসব সরকারি সংস্থা জড়িত সকলের সমন্বয় অতীব জরুরি। এতে অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তিও অনেক কমে আসবে। বিশেষ করে প্রত্যেক সরকারি সংস্থার ২ থেকে ৩ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারি অপর সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করতে হবে। তাছাড়াও ভোগান্তি কমানোর জন্য যে ঠিকাদার প্রথম কাজ পায় তাকে দিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা উচিত। সাব ঠিকাদার হলে কাজের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সময় ক্ষেপন হয় বেশি।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীতে যেসব সরকারি সংস্থা উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত তাদের প্রত্যেকের সাথে সমন্বয় থাকতে হবে। অন্যথা জনভোগান্তি বাড়বে। অর্থেরও অপচয় হবে। তাই প্রত্যেকে একে অপরের সাথে উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বয় করলে সমস্যা অনেকখানি লাঘব হবে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘সরকারি উন্নয়ন কাজে সমন্বয় আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এটি আরো বাড়াতে হবে। অন্তত তিন বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারি সংস্থাগুলো একে অপরের সাথে সমন্বয় করতে হবে। তাতে কমবে জনদুর্ভোগ।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102