বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মা-বাবা ধরে গালিগালাজ এমপি জাফরের

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সিনিয়র নেতাকর্মীদের মা-বাবা ও পরিবার নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই গালিগালাজের ভিড়িও ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন।

শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে তার নিজস্ব কার্যালয় সিস্টেম চকরিয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর প্রতিবাদ সভায় গালিগালাজ করে কথা বলেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও সড়কে ব্যারিকেড দেন এমপি জাফর আলমের অনুসারীরা। পরে পৌরশহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ফাকা গুলি বর্ষণ করেন এমপির অনুগত বাহিনী।

একপর্যায়ে মহাসড়কের খুটাখালী থেকে হারবাং পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার এলাকা বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ার জালিয়ে অবরোধ করা হয়। এসময় দীর্ঘ লাইন যানজটের সৃষ্টি হয়। দূর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে শুক্রবার বিকালে প্রতিবাদ সভার বক্তব্যে তিনি জেলার সিনিয়র নেতার পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগে নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। তাদেরকে প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এমনকি নেতাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চরিত্র হনন করেও বক্তব্য দেন।

জানা যায়, গত ৮ জুন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ও নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে অবস্থান করায় চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন জেলা আওয়ামীলীগ।

এতে ওইদিন রাত ১০টার দিকে ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য জাফর আলম, জাহেদুল ইসলাম লিটু ও হাসানুল ইসলাম আদরসহ তাদের অনুসারীরা চকরিয়া পৌরসভার চিংড়ি চত্বরে মেযর প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর উপর হামলা চালায়। এসময় মেয়র সহ ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।

এর প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামীলীগ বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা আওয়ামীলীগের এক জরুরী সভায় জাফর আলমকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে একটি প্রেস নোট দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রাত ৮টার দিকে জাফর আলম তার অনুসারী নিয়ে চকরিয়া পৌরশহরের থানা রাস্তার মাথায় ব্যারিকেড দেন।

এসময় সমর্থকরা টায়ারে আগুন দিয়ে এবং তার বাহিনী ফাকা গুলি ছোড়ে পুরো চকরিয়া পৌরশহরকে আতঙ্কের শহরে পরিণত করে। এসময় দোকানপাট বন্ধ ও সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি করে প্রাণে রক্ষা পায়। তিন ঘন্টা ধরে মহাসড়েক যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে রাত ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অপরদিকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরোয়ার আলমকে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমায় দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102