বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

আড়াই মাস পর আজ খুলছে হোটেল মোটেল

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের অন্যতম আয়ের উৎস হোটেল মোটেল। একই সাথে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে আসছিল পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।

বর্তমানে ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় গণপরিবহন, অফিস আদালত সহ বেশির ভাগ কলকারখানা খুলে দেওয়ার পরে আজ ২৪ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের বন্ধ হোটেল মোটেল জোন খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। এতে কিছুটা স্বস্থি ফিরলেও পর্যটন কেন্দ্র না খুলায় হতাশ ব্যবসায়িরা।

তাদের দাবী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে হলেও পর্যটন কেন্দ্র খুলে না দিলে শুধু হোটেল চালু করলে উল্টো লোকসানে পড়বে তারা।

কলাতলী ঝরঝরি পাড়ায় থাকে হাসিনা আক্তার (১৫)। কয়েক বছর ধরে সৈকতে ঝিনুক বিক্রি করে সে।

দীর্ঘদিন কক্সবাজারে পর্যটক না আসায় দারুণ অর্থ কষ্টে পড়ে এখন বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করছে। তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, হোটেল খুলে দেবে বলে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম তবে সমুদ্র সৈকতে পর্যটক নামতে পারবেনা শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমি চাই কক্সবাজার সৈকত আবারো খুলে দেওয়া হউক। ট্যূরিষ্ট জীপ মালিক আবদু সাত্তার জানান, ট্যূরিষ্ট না থাকায় আমাদের জীপ গাড়িগুলো বেকার পড়ে আছে, ফলে আমাদের পরিবার চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। কারণ আমাদের আর কোন আয় নেই। এখন কোথাও নতুন করে কাজ শুরু করবো সেটাও পারছিনা। সব কিছু বন্ধ তাছাড়া গাড়ীটিও দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে গাড়ীর বেশ কিছু যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি মনে করি দ্রুত কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্র খুলে না দিলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া বিকল্প পথ থাকবেনা।

এদিকে হোটেল মোটেল খুলে দেওয়ার খবরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হোটেলে আসবাবপত্র পরিস্কার করছে হোটেল ব্যবসায়িরা। অনেক কর্মচারীকে বিনাবেতনে ছুটি দিলেও আবার তাদের ডেকে আনছে। তবে হোটেল খুলে দিলেও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় গ্রাহক পাবেনা বলে ধারণা করছেন সবাই।

আলাপ কালে হোটেল ব্যবসায়ি নুরুল আবছার জানান, কক্সবাজারে মানুষ বেড়াতে আসে সমুদ্র সৈকত দেখার জন্য, একটু পরিবারকে নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য, এখনে হোটেল খুলে দিলেও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোন রুম ভাড়া হওয়ার সম্ভবনা নাই। তবুও আমার প্রস্তুতি নিচ্ছি কারণ আশা করছি যে কোন সময় পর্যটন কেন্দ্রও খুলে দিবে সরকার।

হোটেল মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ জানান, করোনা পরিস্থিতিকে সঙ্গী করেই জীবন যাপন করতে হবে এই কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন। করোনা ভাইরাস যেহেতু একেবারে দেশ থেকে বা পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে না তাই প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নিয়ে জীবন যাপনে অভ্যস্থ হতে হবে। কক্সবাজারের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন দ্বিতীয় মৎস্য শিল্প বর্তমানে দুটিই বন্ধ তাহলে স্থানীয় মানুষ কি নিয়ে বাঁচবে। কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে ? সেটা সরকারকে ঠিক করে দিতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে অনেক দেশে লকডাউন তুলে দিয়ে বিনোদন কেন্দ্র গুলো চালু করেছে কারণ মানুষের মানসিক মনোবল শক্ত রাখার একমাত্র মাধ্যম বিনোদন। তাই আমরা মনে করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া দরকার।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের উপদেস্টা মুফিজুর রহমান বলেন, পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রেখে হোটেল খুলে দেওয়ার কোন মানে হয়না। এখানে মানুষ বেড়াতে এসে হোটেলে ঘুমাবে না। আমার মতে প্রশাসন আন্তরিক হলে কক্সবাজারে কিছু পর্যটন স্পটকে বাছাই করে সেগুলো খুলে দিতে পারে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ২৪ জুন থেকে হোটেল মোটেল জোন খোলার জন্য নির্দেশান দেওয়া হলেও সেখানে বেশ কিছু সর্ত থাকবে। যেমন হোটেলে ৫০% রুম ভাড়া দেওয়া যাবে। হোটেলের রেস্টুরেন্ট খোলা যাবে না। সুইমিংপুল খোলা যাবে না, বড় কোন আয়োজন করা যাবেনা। হোটেলের গেইটে সার্বক্ষনিক সুরক্ষা সামগ্রি সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু নির্দেশনা চুডান্ত হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার টূরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, সরকার কখনো চাইবে না দেশের আর্থিক প্রতিস্টান গুলো বন্ধ থাকুক। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগনের স্বার্থদেখা যেহেতু সারা পৃথীবিতে করোনা ভাইরাসের কারণে কিভাবে মৃত্যুর মিছিল বেড়েছে তা আমরা দেখেছি। তাই আগে জীবনের নিরাপত্তা তার পর অন্যকিছু সেজন্য সরকার লকডাউন দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য কাজ করেছে। আর হোটেল খোলার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাওভাল, আমরা সরকারের যে নির্দেশনা আসে সেটা বাস্তবায়নের জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102