বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

ঈদ পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকটে পৌর শহর

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

ঈদের পর থেকে চরম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট বিরাজ করছে কক্সবাজার পৌর শহরে। যেখানে-সেখানে ময়লার স্তুপ লক্ষ্য করা গেছে পুরো শহরব্যাপী। এনিয়ে চরম বিপাকে কক্সবাজার শহরের ১২টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ময়লার স্তুপ থেকে চরম দূর্গন্ধে অতিষ্ট পৌরবাসী। পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে কিছু কিছু এলাকায় ডাস্টবিন থাকলেও উপচে পড়ছে ময়লাগুলো। ঈদের পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ময়লা-বর্জ্যগুলো সরানোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদাসীন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, একদিকে সড়ক নিয়ে অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে মোটেই ভাল নেই শহরবাসী।

শহরের বায়তুশ শরফ রোড, বৌদ্ধ মন্দির গেইট, গোলদীঘির পাড় এলাকা, গার্লস স্কুল রোড, বিকেপাল সড়ক, ঘোনার পাড়া এলাকা, বৈদ্যঘোনা এলাকা, টেকপাড়া পাড়ার প্রতিটি মোড়, বার্মিজ স্কুল রোড, চাউল বাজার সড়ক, পেশকার পাড়া এলাকা, হাসপাতাল সড়ক, মোহাজের পাড়া এলাকা, স্টেডিয়াম সংলগ্ন, আমিনা খাতুন স্কুল সড়ক, হাঙ্গর পাড়া এলাকা, নুনিয়ারছড়া, রুমালিয়ারছড়া, আলির জাঁহাল, কালুর দোকান, বাস টার্মিনাল, কলাতলী, হোটেল-মোটেল জোনের প্রতিটি মোড় সহ প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রায় এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ময়লার স্তুপে পরিপূর্ণ।

এসময় স্থানীয়রা জানান, ময়লার ভাগাড়গুলো দীর্ঘদিনের। অজ্ঞাত কারণে এভাবে দিনের পর দিন ময়লাগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পঁচা বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং ডাস্টবিন থেকে সরিয়ে না ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৯৭টি মহল্লা রয়েছে। এসব মহল্লায় প্রায় ২ লক্ষাধিক জনসংখ্যার বসবাস। বসবাসকারী এসব জনসংখ্যার সৃষ্ট দৈনিক হাজার টন বর্জ্য শহরবাসীকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে। স্কুল-কলেজের সামনে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার ধারে, শহরের অলি-গলিতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে বর্জ্যগুলো। এসব বর্জ্যরে দুর্গন্ধে বাসা-বাড়ী থেকে বের হওয়াও দুস্কর। একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লাগুলো ফেলে রাখায় পঁচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এক রকম বাজে অবস্থায় আছে শহরবাসী।

এদিকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বর্জের অব্যবস্থাপনার কারণ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দোষারোপ করছেন। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রায়ই নিজ নিজ ওয়ার্ডে বসবাস করছে। কিন্তু ময়লার ভাগাড়গুলো দেখেও না দেখার মতো দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। এক সময় ওয়ার্ডগুলোতে নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন করার তাগিদ ছিল শহরবাসীর। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রায় ওয়ার্ডেই কিছু কিছু ডাস্টবিন লক্ষ্য করা গেলেও মূলতঃ ময়লার স্তুপে পরিপূর্ণ এসব ডাস্টবিন।

তবে একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এসব ময়লাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে ফেলতে। শীঘ্রই এসব পঁচা-দূর্গন্ধ ময়লা সরিয়ে ফেলা হবে। এক্ষেত্রে এলাকায় সম্মানিত বসবাসকারীদের একটু নিজেদের মধ্যে সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করেন অনেকে। তাঁরা বলেন, সম্মানিত পৌরবাসী যদি একটু সচেতন হতো তবে ময়লাগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হলে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তা সহজে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনেকেই এসব ময়লাগুলো সরাসরি ফেলে দেয় নালা-নর্দমায়। তাই পরিচ্ছন্নকর্মীরা নালা থেকে তুলে এসব ভেজা ময়লা ডাস্টবিনে রাখলেই পঁচা-দুর্গন্ধ বের হয়।

ঘোনার পাড়া এলাকার রাজীব বাবু বলেন, ‘শহরে বসবাস করার জন্য অনেক নাগরিকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি বিষয়টি মিথ্যা নয়। নাগরিকদের সচেতনতার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছুটা হলেও দায়িত্ব রয়েছে। সেদিক দিয়ে সচেতনতা কিংবা প্রচার-প্রচারণায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ পিছিয়ে রয়েছে। শহরের গোলদীঘির পাড় থেকে শহরের ঘোনার পাড়া, বৈদ্যঘোনা এলাকা, কবরস্থান সড়ক এলাকায় বাসা-বাড়ির পাশে-পাশে মোটেও ডাস্টবিন কিংবা বর্জ্য ফেলার কোন নির্ধারিত জায়গা নেই। থাকলেও তা অতি সন্নিকটে নয়। এক্ষেত্রে বসবাসরত নাগরিকরা বাধ্য হয়ে রাস্তার মোড়ে কিংবা নালায় বর্জ্য নিক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছে। সচেতনতার পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ডাস্টবিন কিংবা বর্জ্য ফেলার জায়গা নির্মাণ করে সচেতনতায় প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পঁচা দূর্গন্ধের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাবে, ডাস্টবিন অথবা ময়লার ভাগাড়ের পাশে খাবারের দোকান, ফলের দোকান, মুদির দোকান, ভ্রাম্যমান খাদ্য সামগ্রীর দোকান। ময়লা-আবর্জনায় বসা কীটগুলো সহজেই এসব খাবারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে শহরবাসী। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্দিষ্ট স্থান থেকে ময়লা সরিয়ে ফেলা জরুরি।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, খুবই দুঃখজনক যে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায়ই এলাকা ময়লার স্তুপ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সব দুঃখজনক ব্যাপার যে, স্বাস্থ্যকর স্থান হাসপাতাল কিংবা অনেক স্কুলের সামনে এসব ময়লা দীর্ঘদিন ধরে স্তুপ করে রাখতে দেখা গেছে। একদিকে শহরে সড়কগুলোর বেহাল দশা অন্যদিকে ময়লার ভাগাড়।সম্প্রতি বৃষ্টির সময় আমরা দেখেছি কক্সবাজারে সামান্য বৃষ্টি হলে কি হতে পারে! তাই যত দ্রুত সম্ভব নালা-নর্দমাগুলো পরিস্কার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্তুপকৃত ময়লাগুলো সরিয়ে ফেলা জরুরি।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নালা-নর্দমাগুলো পরিস্কার এবং ঈদ পরবর্তী কক্সবাজার শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট উত্তোরণে পৌর পিতার দৃষ্টি কামনা করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102