বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

উপকূলে ৬৫ হাজার একর জমিতে শুরু হচ্ছে চিংড়ি চাষ।

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

বৃষ্টি হলেই সমাপ্ত হবে লবণ মৌসুম। চলতি মাস থেকেই কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে পুরোদমে শুরু হচ্ছে চিংড়ি চাষ। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ প্রজেক্টে চাষ শুরু হয়েছে। লবণ চাষ বন্ধ হলেই সবকটি প্রজেক্টেই শুরু হবে চিংড়ি চাষ। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ঘের সংস্কার ও পোনা মজুদের কাজ।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় জেলায় অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হবে চলতি মৌসুমে। সবকটি প্রজেক্টেই মৎস্য অধিদপ্তর নজর রাখেন এমন দাবী সংশ্লিষ্টদের। একবার বৃষ্টি হলেই লবণ মৌসুম শেষ হবে। শুরু হবে চিংড়ি চাষ।

চিংড়ি পোনা সরবরাহকারী হোয়ানক ইউনিয়নের ফকিরখালী গ্রামের আজিজুর রহমান বলেন চলতি মৌসুমে স্থানীয় পোনার চাইতে হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনার চাহিদা বেশী। ইতোমধ্যে ৪/৫টি প্রজক্টে প্রায় ৭০ লাখ পর্যন্তচিংড়ি পোনা সরবরাহ করা হয়েছে। চাষ পুরোদমে শুরু হলে চাহিদা আরো বাড়বে। গত মৌসুমে চিংড়ি চাষে লাভ হওয়া চাষীদের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে।

কুতুবদিয়ার চিংড়ি চাষী মিজানুর রহমান টিটু জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে লবণ চাষ প্রায় শেষ হয়েছে। বৃষ্টি না হলে কিছু প্রজেক্টে আরো কিছু দিন চলবে লবণ মাঠ। দখলবাজী চিংড়ি প্রজেক্টের বড় সমস্যা এমন দাবী করে তিনি বলেন, জমির মালিকরা কোন সময় জমির ন্যায্যমুল্য পায় না। যেখানে একর প্রতি ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে সেখানে ৩/৪ হাজার টাকার বেশী পায় না। তা জমির মালিকদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।

বদরখালীর চিংড়ি ব্যবসায়ি সাবেক মেম্বার বেলাল আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে বাগদা চিংড়ির মূল্য বেশী থাকায় সবাই প্রজেক্টের দিকে নজর দিয়েছে। তাই দ্র‍ুত গতিতে চলছে প্রজেক্টের কাজ। অনেকেই আরো দুই মাস আগে নার্সারী করে পোনা মওজুত করেছে। চাষ শুরু হলেই সন্ত্রাস ও চাদাবাজের দৌরাত্ব বেড়ে যায়। বিশেষ করে রামপুর এলাকায় চিংড়ি চাষ করা অত্যন্তঝুকিপুর্ণ। একটি প্রভাশালী মহল এলাকার সবকটি প্রজেক্টই নিয়ন্ত্রণ করে।

জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে চিংড়ির আশানুরূপ উৎপাদনের ফলে লাভের মুখ দেখায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ উৎসাহে কাজে নেমেছেন চিংড়ি চাষিরা। জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় শুরু হবে চাষ।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল হাই জানিয়েছেন, চিংড়ি প্রজেক্টে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই পুলিশের পক্ষ থেকে আরো কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কোন চাষী কিংবা জমির মালিক অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, চিংড়ি চাষীদের প্রতি আমাদের দৃস্টি রয়েছে। কোন সমস্যা হলে আমরা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102