বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

কুতুবদিয়ায় টিকা সংকটে আটকা অর্ধশত প্রবাসী

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

কুতুবদিয়ায় করোনা টিকা সংকটে আটকা পড়ে আছে বিদেশযাত্রী অন্তত অর্ধশত প্রবাসী। এদের অনেকেই প্রথম ডোজ নিলেও নিতে পারেনি ২য় ডোজ। আবার কেউ কেউ টিকা মোটেও গ্রহণ করেনি। বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটিতে আসা ও নতুন বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিদের ছুটি শেষ ও ভিসা এসে মেয়াদ শেষের পথে। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি বিদেশ যেতে করোনা টিকা গ্রহণের সনদ বাধ্যতামূলক করায় এ বিরম্বনায় পড়েছেন তারা। যাদের সনদ নেই তারা বিদেশ গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

অপর দিকে এমন বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন অন্তত ৫০ জন বিদেশযাত্রী ও প্রবাসী। উপজেলায় প্রথম ডোজ করোনার টিকা নিয়েছে ৪০৮৩ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২১১৬ জন। গত ২৭ মে দ্বিতীয় ডোজের সর্বশেষ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। টিকা সংকটে নিতে পারেনি প্রায় দুই হাজার প্রথম ডোজ গ্রহীতা। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদের জানান, জুলাইয়ের এক তারিখে তার ছুটির মেয়াদ শেষ হবে। করোনা প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ করতে পারেননি।

কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে তার ফ্লাইটের কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিল করে ঢাকা থেকে যেতে হবে জানিয়ে দিয়েছে। সাথে অন্তত ১ লক্ষ টাকা নিতে বলেছেন টিকিট কর্তৃপক্ষ। তার দাবি করোনা সনদ ছাড়া গেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখবে। এই ১৪ দিনে বাসা ভাড়া, খাওয়া আনুসাঙ্গিক খরচ ৩০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে তারা এক লক্ষ টাকা অতিরিক্ত কেন নিতে বলেছেন তা তিনি জানেননা।

তিনি আরো বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ধর্ণা দিচ্ছেন। কোন টিকাই আসেনি। সার্ভারও খোলা নেই। অন্তত নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ নিয়ে যেতে চান।

আলী আকবর ডেইলের রফিক নামের একজন জানান, অনেক কষ্ট করে জমি বিক্রি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে ওমান যেতে ভিসা এসেছে। টিকা নেয়ার ইচ্ছা থাকলেও টিকা প্রদান এখন বন্ধ। নিতে পারিনি। নতুন গিয়ে কোয়ারেন্টিনে রাখলে আমার উপায় কি। বাড়তি টাকা যোগাড় করব কো’থেকে।

হাসপাতালের ইপিআই টেকনিশিয়ান সৈয়দ কামরুল হাসান জানান, একাধিক দফায় ৬৫০ ভায়াল (৬ হাজার ২০০ ডোজ) টিকা আনা হয়েছিল। এর পর পাওয়া যায়নি। গত পরশু দেয়ার কথা ছিল বিধায় তিনি বিদেশযাত্রী ও প্রবাসীদের যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। এদের অনেকেই মঙ্গলবার আসার কথা রয়েছে। কি পরিমাণ টিকা বরাদ্দ পাবেন তা জানা যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রধান আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রেজাউল হাসান বলেন, করোনা টিকা গ্রহণের লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালানো হয়েছে। খুব একটা সাড়া মেলেনি। দেশব্যাপি টিকা সংকটের প্রভাব এখানেও। ফলে দ্বিতীয় ডোজও পায়নি প্রায় দুই হাজার জন। নতুন রেজিস্ট্রেশন বন্ধ। দু-একদিনের মধ্যেই টিকা আসবে। তবে যেসব প্রবাসী প্রথম ডোজও নেয়নি তারা আদৌ প্রথম ডোজ এই মূহ্রর্তে নিতে পারবেন কিনা সেরকম নির্দেশনাও আসেনি। তবে দ্বিতীয় ডোজের জন্য যেসব প্রবাসি বা গমনেচ্ছুক তারা টিকা এলে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102