বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

কেন এত বজ্রপাত? সাবধানে থাকতে যা করতে হবে

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ৮ মে, ২০২১
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

গত এক সপ্তাহে বজ্রপাতে কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে। এ সময় ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এত বজ্রপাত হচ্ছে? জানতে চাইলে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, ‘এই সময়ে এই ধরনের আবহাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এপ্রিলের শুরুতেই বৃষ্টি হয়। বজ্রপাতও হয় ঘন ঘন। চলে মে’র শেষ পর্যন্ত। এই সময়ে গরমও পড়ে। এই গরম মৌসুমী ফল ও কৃষির জন্য ভাল। কিন্তু এবার যেভাবে গরম পড়ছে সেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে না। ঝড়ের পর কিছুক্ষণ টানা বৃষ্টি হয়। এতোদিন বৃষ্টি কম হয়েছে। এখন হয়তো বাড়বে। এখন বাতাসের গতির পরিবর্তন হবে। এরপর মৌসুমী বায়ু আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময় নিম্নচাপও হয়। মেঘের নড়াচড়া বেড়ে যায়। ফলে বজ্রপাতও বাড়ে। এবারও বর্ষা শুরুর আগে বজ্রপাতের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে।’

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘শীতকালে সাধারণত উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়। আর শীতের পর তা দক্ষিণ দিক থেকে বইতে শুরু করে। এই বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জ্বলীয় বাষ্প থাকে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে তাপীয় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এই লঘুচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এসব এলাকায় বজ্রমেঘ তৈরি হয়। সেখান থেকেই বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এ সময় আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। ওই মেঘের উচ্চতাও হয় অনেক বেশি।’

কীভাবে এই বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্ক থাকা যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বজ্রপাতের সময়। যখনই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুনবেন বৃষ্টি হবে, তখনই বজ্রপাত হবে ধরে নিতে হবে। বিশেষ করে এপ্রিল, মে ও জুনের শুরু পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকবে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে খোলা জায়গায় না থেকে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হবে। এই সময় বড় গাছের নিচে থাকাটা সবচেয়ে অনিরাপদ। কারণ বজ্রপাত উঁচু কিছুর ওপরেই আঘাত হানে।

খবর বলছে, গত ৬ মে বজ্রপাতে তিন জেলায় ৫ জন মারা গেছেন। পটুয়াখালী ও হবিগঞ্জে দুজন করে চারজন, ভোলায় একজন। আগের দিন ৫ মে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে তারা মারা যান।

৪ মে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বজ্রপাতে এক নারীসহ চার জন মারা গেছেন। একই দিনে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বজ্রাঘাতে আব্দুল বারী (৫০) নামের এক কৃষক মারা গেছেন। ২ মে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাঠে মেশিনে ধান মাড়াই করার সময় বজ্রপাতে নজমুল হক (৫৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

এই মৌসুমে মানুষ ধান কাটতে গিয়েই বজ্রাঘাতে মারা যাচ্ছেন বেশি। মার্চের শেষ ভাগ থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বজ্রাঘাতে প্রতি বছর গড়ে ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। সাধারণত ফাঁকা জায়গাতে বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি। এই সময় আকাশে মেঘ দেখা মাত্রই ঘরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু মানুষই নয়, বিপুল পরিমাণ গবাদি পশুও বজ্রপাতে মারা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারতের কয়েকটি অংশকে বজ্রপাতপ্রবণ বিবেচনা করা হয়। তবে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে আমাদের দেশে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে ভেনেজুয়েলা ও ব্রাজিলে। সেখানকার তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা অসচেতনতাকেই বেশি দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কোন পরিস্থিতিতে ঘরে থাকতে হবে, সেটা সাধারণ মানুষ জানে না। জানলেও অনেকে মেনে চলে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102