রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০২ অপরাহ্ন

জরিমানার টাকা সাথে নিয়ে পাহাড় কাটছে অনেকে

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে একাধিক স্থানে চলছে অবিরাম পাহাড় কাটা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। একই সাথে কিছু স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, আবার কেটে ফেলা সেই জমি দখল, সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা সহ নানান ভাবে দখল হচ্ছে পাহাড়ের জমি।

বৃষ্টির পানিতে পাহাড় কাটতে বেশি সুবিধা তাই এখন জোরেশোরে চলছে পাহাড় কাটা। প্রশাসনের কোন অভিযান না থাকা আবার অভিযানে নূন্যতম জরিমানা বা লঘুদন্ড হওয়ায় অনেকে জরিমানার টাকা সাথে রেখেই পাহাড় কাটছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহলের দাবী সামান্য যে কয়েকটি পাহাড় আছে তা রক্ষার জন্য প্রশাসন সহ সর্বস্থরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সরজমিনে শহরের পাহাড়তলী এলাকার কয়েকটি স্পটে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি যত বাড়ে পাহাড় কাটাও তত বাড়ে, এর মধ্যে পাহাড়তলীর সিরাজের ঘোনা, ইসলামপুর, শাহনুরনগর, হালিমাপাড়া, অলি আহামদের ঘোনা, জিয়া নগর, ইসুলুঘোনা সহ বেশ কিছু স্পটে চলছে পাহাড় কাটা। গতকাল ৭ জুন বিকালে সিরাজের ঘোনা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ছৈয়দ নুর, আবদুল্লাহ সহ কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিক পাহাড় কাটছে সাংবাদিক দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় আলাপকালে তারা স্বীকার করেন টাকার বিনিময়ে তারা পাহাড় কাটছে, সেখানে নুর হোসেন, শুটকি ব্যবসায়ি শরিয়ত উল্লাহ, রশিদ,জমির, আলাউদ্দিন (সবাই রোহিঙ্গা) তারা সবাই সম্প্রতি পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ করেছে। এখানে বেশির ভাগই পাহাড় কাটার জন্য রোহিঙ্গাদের নিয়োজিত করেন নুর মোহাম্মদ নামের আরেক রোহিঙ্গা।

এছাড়া অলি আহামদের ঘোনাতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে শুক্কুর, রোহিঙ্গা বাবুল (মাছ ব্যবসায়ি) পাহাড় কেটে আলিশান বিল্ডিং তৈরি করেছে, এছাড়া তারাবনিয়ারছড়া এলাকার ফেরদৌস নামের আরেক ব্যক্তি পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছে, একই সাথে শাহ আলম, দিল মোহাম্মদ সহ অনেকে পাহাড় কেটে বাড়ি করছে। এদিকে ইসলামপুর, শাহনুর নগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। সেখানে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে চলছে অবিরাম পাহাড় কাটা, এর মধ্যে পাহাড়ের জমিতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইট পাথরের দালানঘর তার মধ্যে অন্যতম ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার হওয়া রোহিঙ্গা নারী তাহেরা বেগম সহ অনেকে। এছাড়া জিয়া নগর, হালিমাপাড়াতে পাহাড় কাটছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ।

এ সময় বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এখন পাহাড় কাটার ভাল মৌসুম তাই অবিরাম চলছে পাহাড় কাটা, আর সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। পাহাড়ের জমি সমতল করতে পারলে সেগুলো তারা কিনে নেয়, প্রতি ২ শতক এক গন্ডা জমি ১ থেকে ২ লাখ টাকায় কিনে নেয় তারা। পরে সেখানে প্রথমে ঝুপড়িঘর তৈরি করে থাকে পরে সেখানে আধুনিক সেমিপাকাঘর করে। আর বছর ঘুরতেই তাদের ছেলেমেয়ে বিয়ে দিয়ে আরো নতুন করে পাহাড় কেটে তা দখল করে। এখানে শুধু বৃহত্তর পাহাড়তলীতে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস বলে জানান তারা।

আমির হোসেন নামের একজন স্থানীয় জানান, শুধু বর্ষা আসলেই পাহাড় কাটা নিয়ে তোড়জোড় বাড়ে আর প্রশাসন অভিযানের নামে শুধু কিছু জরিমানা করে নয়তো সামান্য শান্তি দেয় এতে পাহাড় কর্তনকারীরা কেউ পাত্তা দেয়না। এখানে অনেকে প্রশাসনের জরিমানার টাকা সাথে নিয়ে পাহাড় কাটছে। যেহেতু ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে স্থায়ী ঘর তৈরি করার জন্য জমি পাচ্ছে সেখানে কেন তারা কারো কথা শুনবে।আর এখানে পাহাড় কাটা, জমি দখল, ঘর তৈরি আবার সেগুলোর বিচার করার জন্য লোকের বা নেতার অভাব নেই। কোন ঝামেলা হলে সেই নেতারা সব কিছু ম্যানেজ করে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আগে আসা অনেকে এখন সর্দার বা নেতা হয়ে গেছে আবার অনেকে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসী আছে তাই অনেক স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের কাছে অসহায় তাই কেউ সহজে কোন পদক্ষেপ নিতে চায়না।

আবদুস সালাম নামের একজন বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অল্প সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গারা এই এলাকা শাসন করবে, এখানে স্থানীয়রা মাথা তুলে কথা বলতে পারবেনা। আর পাহাড় কাটার কথা বলতে গেলে আমি বলবো সরকারের কয়েকটি বাহিনি এক সাথে অভিযান করে ব্যাপক হারে পাহাড়ে যারা ঘর করেছে তাদের উচ্ছেদ এবং যারা জমি বিক্রি করছে তাদের নামে মামলা, তাৎক্ষনিক জেল সহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারলে অভিযান চালালে লাভবান হবে। না হলে নামমাত্র অভিযানের প্রয়োজন নাই। কারণ তারা জরিমানার টাকা সাথে রেখেইে পাহাড় কাটছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102