সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

জেলেদের সহযোগীতায় দুই হাতিকে উদ্ধার করে বনে ফেরানোর চেষ্টা

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ পাহাড় থেকে এসে নাফনদীতে নেমে পড়া হাতি দুইটি শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করে বনে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত ছিল গতকাল রাতেও। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাতিগুলোকে রশি দিয়ে কৌশলে টেনে শাহপরীরদ্বীপ থেকে সাবরাং পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

গত চারদিন ধরে নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকে এই হাতি দুটি। হাতি দুটি বনে ফেরাতে তিনদিনের ব্যর্থ চেষ্টার পর গতকাল চুতুর্থ দিনে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ।

তিনি বলেন, হাতি দুটি গত চারদিনই নাফ নদ এবং সাগরে খাবার সংকটে ছিল। উদ্ধার পরবর্তী হাতি দুটিকে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হয়েছে। হাতি দুটি উদ্ধারের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ স্থানীয়দের যথেষ্ট সহযোগীতা ছিল। যদিও আমাদের আধুনিক কোন সুযোগ সুবিধা ছিলনা, এরপরও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাতি দুটি বনে ফেরাতে চেষ্টা করছে বনবিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, গত শনিবার নাফনদীতে দুটি হাতি দেখতে পাই। দ্বিতীয় দিন হাতি দুটি নদের স্রোতে ভেসে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকায় চলে আসে। তৃতীয় দিনে দক্ষিণে সাঁতরে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। তিন দিন ধরে চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ হাতি দুটি বনে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সহযোগীতায় হাতি দুটি সাগর থেকে উদ্ধার হয়। গত চার দিনে হাতি দুটি খাবারের অভাবে অনেকটা রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে।

টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমদ বলেন, প্রথম দিন থেকে হাতি দুটি বনে ফেরাতে চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তবে হাতি দুটি বন ছেড়ে অনেক দূর চলে যাওয়ায় ফেরানো কঠিন হয়ে যায়। তৃতীয় এবং চতুর্থদিনে হাতি দুটি শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করে।

পরে গতকাল মঙ্গলবার শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছে হাতি উদ্ধারের চেষ্টা করলে প্রথমে স্থানীয় জেলেরা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তাদের সহযোগীতায় চারটি বোট প্রস্তুত করে, রশি এনে একটি একটি করে হাতি দুটি সাগর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সৈকত তীরে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যায় হাতি দুটি একসঙ্গে মেরিন ড্রাইভ এলাকা দিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102