বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

টিকা দিতে না পারায় বিদেশ যেতে পারছেনা প্রবাসীরা

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

টিকা দিতে না পারায় বিদেশ যেতে পারছেনা ছুটিতে আসা অসংখ্য প্রবাসী। তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসে যোগযোগ করছে কখন টিকা আসবে। এদিকে লকডাউনের ফলে আরো অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে প্রবাসীরা। এছাড়া করোনা সংকটে কাজ হারিয়ে ঘরে বসে থাকা প্রবাসীরাও পাচ্ছেনা কোন সরকারি সহায়তা এতে চরম কষ্টে দিন কাটছে এক সময় দেশের জন্য বিদেশী অর্থ পাঠানো রেমিটেন্স যোদ্ধারা। তাই দ্রুত প্রবাসীদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করার দাবী জানান তারা।

পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়া পাড়ার নুরুল আলম দেশে এসেছেন ৬ মাস। সৌদি আরব থেকে আসার সময় ছুটি ছিল ৬ মাস এখন ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়াতে আবার সৌদি আরব যেতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে এখন করোনার টিকা না নেওয়া ছাড়া সৌদি আরবে গেলে আমাকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে না হলে বিমানের সিট কনফার্ম করতে পারছেনা। এর মধ্যে বাংলাদেশে সরকারি ভাবে টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও স্থগিত তাই চরম বেকায়দায় পড়েছেন এই প্রবাসী।

একইভাবে ছনখোলা এলাকার আবদুল মুবিন বলেন, আমি সৌদি আরবের মক্কায় থাকি বর্তমানে সেখানেও ব্যবসা বাণিজ্য সব বন্ধ তাই প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে চিন্তা করেছিলাম আর বিদেশ যাব না। তবে এখানে এসে দেখছি সৌদি আরবের চেয়ে এখানে খারাপ অবস্থা দেশে আয় করে সংসার চালানো বেশ কঠিন। তাই আবার সৌদি আরবে কফিলের সাথে যোগাযোগ করে কোন মতে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছি বিদেশ চলে যাব বলে কিন্তু এর মধ্যে সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে সেখানে টিকা ছাড়া যাওয়া যাবে না।  আর যদি টিকা দেওয়া না থাকে আমাদের খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এর জন্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা দেশে বিমানের টিকেটের সাথে জমা দিতে হবে। যা আমার সামর্থের মধ্যে নেই। এর মধ্যে জমানো যা টাকা পয়সা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন জমি বিক্রি করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছি সেই টাকাও শেষ হয়ে আসছে। জানিনা কখন টিকা দিতে পারবো আর কখন বিদেশ যাব।

রামু চাকমারকুল ইউনিয়নের জারাইতলী এলাকার আবদুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর বাহরাইন থাকি। ৫ মাস আগে এসেছি। বাহরাইনে করোনা সংক্রমণ তেমন নেই তবে ঠিকই বেশ কিছু নিয়ম কানুন মানতে হয়। তবে এখন দেশে এসে আটকে গেছি। টিকা দেওয়া ছাড়া বিমানের সিট কনফার্ম করতে পারছিনা। এর মধ্যে রামু, কক্সবাজার, এমনকি চট্টগ্রামে হাসপাতালেও দৌড়াদৌড়ি করেছি তবে টিকা দিতে পারিনি। তাই মনটা খুবই খারাপ হয়ে আছে। বাহরাইনে আমার বেশ কিছু কাজ আছে এখন না পারছি করতে আর না পারছি এখানে কিছু করতে। তাই সব দিকে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন অন্তত ৩০/৪০ জন প্রবাসী আসে টিকা দেওয়ার জন্য। আসলে দীর্ঘ বছর প্রবাসে কোন কাজ না থাকায় সবার অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। এখন যদি টিকা ছাড়া যায় তাহলে তাদের নিজস্ব খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যার টাকা এখানেই পরিশোধ করতে হবে। আর যদি কারো একটি টিকা দেওয়া থাকে তাহলে প্রবাসে নিজ ঘরে কোয়ারেন্টান পালন করতে পারবে। আর যাদের দুটি টিকা দেওয়া আছে তারা সরাসরি কাজে যেতে পারবে।

তিনি জানান, আমি যতটুকু জানি সরকার বিভিন্ন ভাবে টিকার জন্য চেস্টা করছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘোষণা দিয়েছেন টিকা আসলে আগে প্রবাসীরা পাবে। এদিকে কক্সবাজার বিমান অফিসের কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন অনেক প্রবাসী আসে বিমানের টিকিট করার জন্য। তবে টিকেটের সাথে বেশ কিছু শর্ত বিশেষ করে টিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে টিকেট কনফার্ম করতে পারছেনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102