বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে মুক্তি কক্সবাজার কর্তৃক উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে DFAT AHP এর অর্থায়নে Oxfam এর কারিগরি সহযোগিতায় মুক্তিকক্সবাজার কর্তৃক বাস্তবায়িত “DFAT AHP III Project” প্রকল্পের ৩০০ জন বসতভিটায় শাক সবজি চাষ উপকারভোগীদের মধ্যে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরন করা হয়েছে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোছাইন আহমদের সভাপতিত্বে পানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুক্তিককস্বাজার এর প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবুল মনসুর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অক্সফামের সিনিয়র ই এফ এস ভি এল অফিসার মো: শরিফুল ইসলাম ।

প্রধান অতিথি বিতরন অনুষ্ঠানে বলেন, আমি টেকনাফ এসে যতটুকু জেনেছি তাতে কক্সবাজার জেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সার্বিক উন্নয়নে মুক্তিকক্সবাজার এর অবদান অনেক বেশি। তিনি শাক সবজি চাষ উপকার ভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘আমার বাড়ি আমার খামার” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নিজের বাড়িকে একটি খামার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, আপনার বাড়ির আশে পাশের পতিতজমিতে শাক-সবজি চাষ করবেন, বাড়িতে হাঁস-মুরগী লালন পালন করবেন, গৃহপালিত পশু পাখি লালন পালন করবেন, এর ফলে আপনি নিজেও স্বাবলম্বী হবেন সাথে সাথে দেশও স্বাবলম্বী হবে। মুক্তিককস্বাজার আজকে যে কৃষি উপকরন ক্রয়ের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করলেন এজন্য মুক্তিককস্বাজারকে ধন্যবাদজানাচ্ছি এবং আপনারা এ টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগালে এ এলাকায় কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অবদান রাখবে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক ইঞ্চি পরিমান জায়গা খালি রাখা যাবে না তাই আপনারা বসতবাড়ির আশে পাশে সবজি চাষ করে প্রধানমন্ত্রীর কথার যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং এর পাশাপাশি কোভিড-১৯ এর সরকারের সকল আইন মেনে চলার আহবান জানান।

মুক্তিককস্বাজার এর প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, সরকারের পাশাপাশি মুক্তিকক্সবাজার জেলায় পিছিয়ে পড়া হত দরিদ্রজন গোষ্ঠির দারিদ্রতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, জীবিকায়ণসহ সমাজের নানা অসংগতি দুর করার লক্ষ্যে কাজ করে।

তিনি সুবিধা ভোগিদের উদেশ্যে বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নে এর আগেও মুক্তিকক্সবাজার অনেকগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্রতা দূরীকরনের জন্য কাজ করেছে তারই ধারাবাহিকতায় অক্সফামের কারিগরি সহযোগিতায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে আসছে, আপনারা বসতবাড়িতে শাক-সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে যেমন বেশি বেশি শাক-সবজি খেতে পারবেন পাশাপাশি অতিরিক্ত শাক সবজি বিক্রি করে টাকা উপার্জন করতে পারবেন যাহা পরিবারের জন্য একটি বাড়তি আয়। আপনারা যদি ভালভাবে কাজ করেন তাহলে মুক্তিকক্সবাজার ভবিষ্যতেও এ প্রকল্পের মাধ্যমে আপনাদের সাথে আবারো কাজ করেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এর পাশাপাশি কোভিড-১৯ এর সরকারের সকল আইনমেনে চলার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অক্সফামের সিনিয়র ই এফ এস ভি এল অফিসার মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি শাক সবজি খাওয়া খুবই প্রয়োজন। আপনারা প্রশিক্ষনে লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে নতুন কৌশল অবলম্বন করে বেশি বেশি শাক সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক চাহিদাপূরণ করতে পারলেই আমাদের সমাজ থেকে পুষ্টির অভাব দুর করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য যে, দরিদ্র পরিবার সমুহের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে অক্সফাম এবং সহযোগি সংস্থা মুক্তিককসবাজার বসত ভিটায় শাক সবজি উৎপাদনের জন্য ৩০০ জন উপকার ভোগিদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বাবদ মোট ৭৫০০০০(সাতলক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করেন এবং বসতভিটায় সবজি চাষের কৃষি উপকরন হিসেবে খরিপ-০১ এর ৮ জাতের শাক ও সব্জীর বীজ, কলস, হ্যান্ড স্প্রে, বালতি,গামলা,সেক্স ফেরোমেন ট্রাপ, ভার্মি কম্পোষ্ট সার ও ক্ষেতে বেড়া দেয়ার জন্য জাল বিতরন করা হয়।

এই বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে তারা চাহিদা মাফিক এবং বৈচিত্রময় খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারবে, খেতে পারবে যা তাদের পুষ্টির অভাব পুরনে ব্যাপক আবদান রাখবে। প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: ফয়সাল বারী এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিতরন অনুষ্ঠানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়নের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ, অক্সফাম এর সিনিয়র অফিসার মো. ইকবাল ফারুক,এম এন্ড ই টীমের সদস্য মোঃ রাকিবুল ইসলাম ও সামিরা আক্তার, মুক্তিককসবাজার এর হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো: দিদারুল আলম, প্রকল্প কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন তামজিদ, মো. শাহজালাল, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর আকতার কামাল, পল্লী রানী রুদ্র, মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ, সোমা দত্ত প্রমূখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102