বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে মোহরানার জমিতে তৃতীয় পক্ষের হামলায় স্বামী আহত, স্ত্রী অসহায়, তোলপাড়

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

নাইক্ষ্যংছড়িতে মোহরানার পরিবর্তে দেয়া জমিতে কাজ করতে গিয়ে তৃতীয় পক্ষের হামলায় আহত হয়েছে ভূক্তভোগীর স্বামী। তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ (২৯)। সে উপজেলার আশারতলী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রীর নাম রিজিয়া আক্তার । ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জুন শনিবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় আশারতলী বিলে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

রিজিয়া আক্তার জানান, তার পিতার বাড়ি রামু উপজেলার কাউয়ারখোপের উখিয়ার ঘোনায়। তার বিয়ে হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলী গ্রামের বাসিন্দা মেহের আলীর পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে।

তার স্বামী ও স্বামীর বড়ভাই অধ্যাপক মুফিজুর রহমান আইনমান্যকারী লোক হলেও এলাকার বখাটে তৃতীয় পক্ষ বাহিনী তৈরী করে ইউনুছ, ইব্রাহিম ও মোঃ কামালরা এ জমিতে কুনজর দেয়। তারা অবৈধ অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত, দুষ্কৃতিকারী, কলহ প্রিয়, আইন অমান্যকারী ও নানাবিধ ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যাক্তিবর্গ হওয়ার সুবাদে তার এ জমি অবৈধ পন্থায় ভোগ করতে চায়।

তিনি আরো জানান, বিশেষ করে তপশীলে বর্ণিত কৃষি জমি তার রিজিয়ার শ্বশুর মেহের আলি বিগত ১৭/০৪/২০০৫ ইং তাকে ৪ ভরি স্বর্ণের পরিবর্তে ৬০ শতক প্রথম শ্রেণির জমি মোহরানা বাবদ প্রদান করেন।

এভাবে তার ভাসুর মুফিজুর রহমানের স্ত্রী শাহিনা আক্তারকেও এক একর বিশ শতক জমি অংগীকারনামা দলিল মূলে মোহরানা দেন দু’জনকেই। সেই থেকে রিজিয়া আক্তার ও শাহিনা আক্তার সে জমি ভোগদখলে আছে। কিন্তু চিহ্নিত এ ব্যক্তিরা পরধন লোভী, সন্ত্রাসী সম্পূর্ণ দূর্লোভের বশবর্তী হয়ে তাদের এ জমির দখলামল ছেড়ে দেয়ার জন্য ভীষণ চাপ প্রয়োগ করতে থাকে নানাভাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯/০৬/২০২১ ইং তারিখ সকাল ১০ টার ওই চিহ্নিত বখাটেরা মারাত্মক অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার (রিজিয়ার) স্বত্ব দখলীয় বর্ণিত সেই জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে এবং ব্যাপক তান্ডব চালায়।

অতঃপর রিজিয়া ও তার স্বামী ভিকটিম মোহাম্মদ উল্লাহ ওই বখাটেদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে নি। অতঃপর তারা পরস্পর যোগসাজসে মধ্যযুগীয় ও বর্বরোচিত কয়দায় তাদের হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিম মোহাম্মদ উল্লাহর মাথা লক্ষ্য করে জোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং আঘাতের ফলে ভিকটিম মোহাম্মদ উল্লাহর মাথা হতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা অত্যন্ত নৃশংস ও পাশবিক কায়দায় তাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য ভিকটিম মোহাম্মদ উল্লাহর ঘাড়ে একের পর এক মেরে জখম করে। এছাড়া ওই চিহ্নিত বখাটেরা তাকে (রিজিয়াকে) বিবস্ত্র করত: শালীনতাহানি করে।

এ অবস্থায রিজিয়া ও তার স্বামীর আর্ত চিৎকারে স্বাক্ষী করিম, পিতা-গোলাম ছোবহান মিয়াজী, করিম, পিতা-ফরিদুল আলম, নজরুল, পিতা-নজির আহমদ ইউনুছ গং এর কবল থেকে তাকে ও ভিকটিম মোহাম্মদ উল্লাহ কে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ইউনুছ, ইব্রাহিম ও মোঃ কামালের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করলেও তাদের মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে শাহ আহমদ উল্লাহর বড় ভাই একটি ফাজিল মাদ্রাসার আরবী শিক্ষক অধ্যাপক মৌলানা মুফিজুর রহমান জানান, মোহরানার পরিবর্তে জমি দেয়ার বিষয়টি সঠিক। কিন্ত নানা কারণে তৃতীয়পক্ষ এটি নিয়ে যা করছে তা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। এ নিয়ে তাদের এধরনের বাড়াবাড়িও ঠিক হয় নি। মূলত তাদের পিতা বৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যাটি প্রকট হচ্ছে। তারপরও তিনি সকলের সহায়তা চান যেন বিষয়টি সহজে সমাধান হয়। সমস্যা যাতে দিনদিন না বাড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102