সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০২ অপরাহ্ন

পরীমনিকে কটাক্ষ

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

পরীমনি রাতে কেন বোট ক্লাবে গেলেন, তার বাসায়ই ‘মদের পাহাড়’- আসামিদের রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে এমন সব কথা উঠল আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মুখ থেকে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনির করা মামলার প্রধান দুই আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ এই আবেদন করে। বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ মহানগর হাকিম রাজিব হাসানের আদালতে সেই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

তার আগে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে যুক্তি দেখান। অন্যদিকে তার বিরোধিতায় আসামি পক্ষের বক্তব্যে অভিযোগকারী পরীমনিকে নিয়ে নানা কথা আসে। হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি স¤প্রতি অভিযোগ তোলেন, পূর্ব পরিচিত অমি গত ৮ জুন রাতে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে নাসির তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করেন।

পরে সাভার থানায় পরীমনি মামলা করার পরপরই গত ১৪ জুন নাসির ও অমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর মাদকের একটি মামলায় নাসির ও অমিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরীমনির মামলায় দুজনকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানিতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, পরীমনি ‘সেলেব্রিটি’ বলে বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন।

“সেলেব্রিটি বলে শুধু উহ আহ করবেন! মিডিয়া ট্রায়াল হবে? এটাও ঠিক নয়। সেলেব্রিটি কি শুধু বাদী নিজে, আমরা কি কেউ নই?” এর আগে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ হেমায়েত হোসেন বলেন, এই ধর্ষণের চেষ্টার উপযুক্ত বিচার না হলে ‘শিল্প-সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে’। এ রকম একজন ‘সেলেব্রিটির’ সঙ্গে এ রকম আচরণ করা অন্যায়। পরীমনির রাতে বোট ক্লাবে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামি পক্ষের আইনজীবী মিজানুর বলেন, “রাত ১২টার পরে বারে পরীমনি গেলেন কেন?

“শরীরে আঁচড় লাগলে ডিএনএ টেস্ট করা হোক। আলামত ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হোক। ভিডিও ফুটেজ আসুক।” আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী এ এইচ ইমরুল কাউছার তিনটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শুনিয়ে বলেন, “দেখুন ইউর অনার, পরীমনি কে? পরীমনির ঘরেই মদের পাহাড় রয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় ওই খানে মদপান করেছেন।” ফলে ওই স্থাপনায় পরীমনিকে ‘জোর করে’ মদ পান করানোর অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। নাসিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী কাউছার বলেন, “পিতার বয়সী একজন এ কাজ করবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

শুনানিতে নাসির আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “ওই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।” নিজের বয়স ৬৫ বছর হওয়া ও অসুস্থতার নানা তথ্য জানিয়ে তিনি তাকে ফের রিমান্ডে না পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আবদুল বাতেন শুনানিতে বলেন, “তাকে (পরীমনি) কোনো ফোর্স করা হয়নি। ওপেন জায়গায় অনেক মানুষ ছিল, ধর্ষণের চেষ্টা ওই খানে হতে পারে না।”

“অমির দোষ কোথায়? তিনি তো বন্ধু হিসাবে গিয়েছেন। তার তো কোনো অভিযোগে সম্পৃক্ততা নাই। আর নাসির সাহেবেরই কী দোষ? তার মান সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এ মামলা,” বলেন তিনি। মামলার আগে এক ফেইসবুক পোস্টে পরীমনি বোট ক্লাবে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ করলে তা ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

পরীমনি তখন বলেছিলেন, ঘটনার পর তিনি থানায় গেলেও পুলিশের সহযোগিতা পাননি। যাদের জানিয়েছিলেন, তারা উল্টো তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে মামলার পর পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। নাসির ও অমি দুজনই বোট ক্লাবের সদস্য ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তাদের বহিষ্কারের কথা জানান ক্লাবটির সভাপতি, পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102