রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে দরকার সতর্কতা

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাককে মহামারি ঘোষণা করেছে পাশের দেশ ভারত। নিকটতম প্রতিবেশী হওয়াতে বাংলাদেশেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে করোনার মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা কেমন হবে সে নিয়ে নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, এ বিষয়টি নিয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সতর্ক আছে। তাছাড়া এ সংক্রান্ত চিকিৎসা সম্পর্কে অধিদফতরের পক্ষ থেকে জেলাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছি।

আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা কেমন হবে, ব্যবস্থাপনা কেমন হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন অধিদফতর দেবে বলেও জানানো হয়।

ভারতে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। সেখানে এখন পর্যন্ত আট হাজার ৮০০ জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছেন এবং এতে সংক্রমিত প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে। আর যারা বেঁচে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে একটি অংশের চোখ অপসারণ করতে হচ্ছে। ভারতের চিকিৎসকেরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার ১২ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা দেয়।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্তে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

কালো ছত্রাকের সংক্রমণকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মিউকরমাইকোসিস। এসব ছত্রাক পরিবেশে বিশেষ করে মাটি, পঁচে যাওয়া জৈব পদার্থ যেমন: পঁচা ফলমূল, পাতা বা পশুর বিষ্ঠায় ছড়িয়ে থাকে। এসব ছত্রাককে ল্যাবরেটরির কৃত্রিম মিডিয়াতে যখন বৃদ্ধি করা হয়, এদের রং হয় গাঢ় বাদামি বা কালো। তাই এদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক বলা হয়।

মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না

চিকিৎসকরা বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যে কেবল করোনার কারণেই হবে সেটা নয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ‘হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড’ ইনফেকশন হতে পারে মন্তব্য করে তারা বলছেন, এটা সহজে মানুষকে সংক্রমণ করে না, তবে ঝুঁকিপূর্ণ রোগী হলে তখন এটা ‘ডেডলি’ হয়। তাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোগীদের পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং দরকার না হলে স্টেরয়েড না দেওয়া ও অক্সিজেন না দেওয়ার মতো কাজগুলো করতে হবে।

তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ‘পার্সন টু পার্সন’ অর্থাৎ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ সম্পর্কে তারা জানান, নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাকে ঘা হয়ে রক্তক্ষরণ, অস্পস্টতা বা ঝাপসা দেখা এবং সেখান থেকে চোখের ভেতর থেকে রক্তক্ষরণ, ফুসফুসের সংক্রমণ ভালো হলেও অক্সিজেন ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মুখের একদিকে ফুলে যাওয়া, নাক অথবা দাঁতের মাড়ি কালো হয়ে যাওয়া, কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্ত বমি, নতুন করে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ, মাথা ব্যথা, দাঁতে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, স্কিনে কালো দাগ দেখা দেয়।

আমাদের দেশে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনও সমস্যা হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে করোনা হলেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস অন্য কোথায় হয়নি, কেবল ভারত ছাড়া।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভারতে অক্সিজেনের সমস্যা ছিল, সে কারণে সেখানে স্টেরয়েড “আনইউজ্যুয়াল” করা হয়েছে। সেখানে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীও বেশি ছিল।’

আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত কোনও কেস রিপোর্ট হয়নি মন্তব্য করে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, ‘একে প্রতিরোধ করার অন্যতম উপায় অনেক বেশি স্টেরয়েড ব্যবহার না করা। ঠিক মতো অক্সিজেন ব্যবহার করা। সাধারণ মানুষের জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড না খাওয়া।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102