রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

ভয়াবহতার কারণেই এলএসডি নিষিদ্ধ, পরিণাম মৃত্যু

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

নিতান্তই কৌতুহল নিয়ে এলএসডি সেবন করেছিলেন এক তরুণ। পরিণতি জানা ছিল না তার। এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক অপরাধ। আসক্তির সময় অন্যের বা নিজের ক্ষতি করা, রক্তারক্তি করার কোনও কথা মাদকের প্রভাব কেটে যাওয়ার পরও মনে করতে পারেন না। অভিভাবকরা আসক্তির কথা বুঝতে পেরে স্মরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। কিন্তু সন্তান যে এই ভয়াবহ মাদকে আসক্ত তা আন্দাজও করেননি তারা। গল্পটা বাংলাদেশের। বেশ কয়েক বছর আগের। সেই আসক্তি থেকে বের হতে না পেরে সেই তরুণের মৃত্যু ঘটে।

৫০ এর দশকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হতো এলএসডি। কিছুদিন পরে ভয়াবহতা দেখতে পেয়ে এটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বৈধ কোনও ব্যবহার এটার এখন আর নেই। যারা মাদক হিসেবে এটি ব্যবহার করেছে তাদের শেষ গন্তব্য অকালমৃত্যু।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। ডিবি বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তারা এই মাদকের সন্ধান পেয়েছে। এরপরই শুরু হয় এ মাদক নিয়ে আলোচনা। রবিবার (৩০ মে) রাজধানীর দুই এলাকা থেকে এই মাদকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত এলএসডি নেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া মানুষে মানুষে ভিন্ন হয়। তবে হ্যালুসিলেশন, উদবিগ্নতা, হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া কমন বিষয়। চোখ বন্ধ করেও এরা দেখতে পায়।

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের মাদক হ্যালুসিনেশন ঘটায়, ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়, অলীক মায়াময় জগতে নিয়ে যায়। এগুলোর সোর্স বের করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আমাদের জানা মতে, দূর থেকে আসে এসব। সেই পথগুলো বন্ধ করতে হবে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ এলএসডিতে আসক্ত রোগী সামলানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশে এর আগেও নানাভাবে এসেছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এর কেনাবেচার কথা রোগীদের কাছেও শুনিনি কখনও।’ এর ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মাদক যারা নেয় তাদের কোনও হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। একপর্যায়ে এমন হয় যে তারা নিজেকে শেষ করে দেয়।’

এলএসডি নামক মাদক ভয়াবহ উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মাদক সেবনে হ্যালুসিনেশনের সৃষ্টি হয়। একবার গ্রহণ করলে প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো সময় ধরে এর কার্যকারিতা শরীরে থাকে। এ মাদকের ভয়াবহতা অনুধাবন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে এটিকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে আমরা এ ধরনের মাদক জব্দ করি। এরপর আর এই এলএসডি মাদক দেশে আসেনি, সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে এই মাদক উদ্ধার হয়েছে। এ ধরনের মাদক যেন দেশে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্কতা এবং বিশেষ নজরদারি রেখেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102