রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০১:০৩ অপরাহ্ন

রামুতে ইশান মোটরস এ ভাংচুর ও কর্মচারীদের ছুরিকাঘাত করে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লুট : মামলা দায়ের

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রামুতে মোটর সাইকেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ইশান মোটরস শো-রুমে এ সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার, সহকারি ম্যানেজার সহ ৩ জন গুরতর আহত হয়েছেন। এসময় হামলাকারীরা ক্যাশ থেকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। বুধবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে রামু বাইপাস সংলগ্ন ইশান মোটরস এর শো-রুমে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পরই রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জন এবং অজ্ঞাত ২০ জনকে আসামী করে বৃহষ্পতিবার (২০ মে) রামু থানায় মামলা (নং ৪৪) দায়ের করেছেন ইশান মোটরস এর স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ শাহজাহান।

মামলার এজাহার ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে- সকাল ৯টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ দল ওই দোকানে গিয়ে দোকান মালিক মোঃ শাহজাহানকে মারধরের চেষ্টা চালায়। এসময় বাধা দিলে হামলাকারিরা প্রতিষ্ঠানটির সহকারি ম্যানেজার আবদুল আজিজের মাথা, ডান ও বাম উরুতে একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এসময় এলোপাতাড়ি হামলায় গুরতর আহত হন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম ও কর্মচারি বাপ্পী।

হামলায় নেতৃত্ব দেন- রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মৃত বজল আহমদের ছেলে আবদুল হক, আবদুল হকের ছেলে মোহাম্মদুল হক জনি ও তুষার, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের টিলাপাড়া এলাকার জনুর ছেলে ফয়জুল্লাহ, হাবিব উল্লাহর ছেলে শুভ। হামলাকারিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ ব্যাক্সে ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য রক্ষিত ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া হামলাকারিরা দীর্ঘক্ষণ তান্ডব চালিয়ে শো-রুমের কাঁচ, দরজা, বিক্রয়ের জন্য মজুদকৃত গাড়ি, অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

হামলার পর স্থানীয় লোকজনকে গুরুতর আহত আবদুল আজিজ সহ অন্যান্যদের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনহিত হওয়ার আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদি ইশান মোটরস এর স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ শাহজাহান জানিয়েছেন- এ ঘটনার পরও হামলাকারিরা তাকে এবং দোকানের কর্মচারিদের এখনো নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করায় হামলাকারিরাও উল্টো সাজানো মামলা দায়ের করার হুমকী দিচ্ছে। হামলাকারিদের অব্যাহত হুমকী-ধমকির কারনে মামলার বাদী, ভিকটিম ও স্বাক্ষীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগীরা এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং মামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই রামু থানার ওসি (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান জানিয়েছেন-এ ঘটনায় ৫ জন আসামী করে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে মামলার বাদি শাহজাহান আরো জানিয়েছেন-এ ঘটনায় ছুরিকাহত আবদুল আজিজের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া আহত প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মচারিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102