বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরাতে কাজ করছে জাতিসংঘ

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘ কাজ করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান ভজকি। বুধবার দুপুরে উখিয়ার আশ্রয়শিবির পরিদর্শন ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আর টেকসই প্রত্যাবাসনের আশ্বাস দেয়ায় খুশি হয়েছেন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরাও।

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউন করা হয়েছে ক্যাম্প। তারপর উপর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে পড়ছে বৃষ্টি। এসব প্রতিক‚লতা উপেক্ষা করেই বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ছুটে আসেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান ভজকি।

ক্যাম্পে এসে বৈঠক করেন ৩৪টি আশ্রয় শিবিরের ৪০ জন রোহিঙ্গা প্রতিনিধির সঙ্গে। প্রথমে একে একে ৫ জন রোহিঙ্গা তাদের বর্তমান অবস্থা এবং স্বদেশে ফিরতে অধীর আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের মধ্যে কথা বলেন ক্যাম্প ১ এর মাঝি মো. রহমত উল্লাহ, ক্যাম্প ৫ এর আফরোজা বেগম, লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মো. রফিক, ক্যাম্প ৪ এর হামিদা বেগম ও হেড মাঝি মো হোসেন।

রোহিঙ্গাদের কথা শোনার পর তাদের ফেরাতে জাতিসংঘ মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত এবং নাগরিকত্ব নিয়ে স্বদেশে ফেরাতে কাজ করছে বলে জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান ভজকি। আর টেকসই প্রত্যাবাসনের আশ্বাস দেয়ায় খুশি হন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মো. রহমত উল্লাহ বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি এসে দেখে যাচ্ছে এতে আমরা খুবই খুশি। আর আমাদের কথা শোনার পর উনি যে কথাগুলো আমাদের বলেছে এতে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ রোহিঙ্গার যে মামলা হয়েছে সেটা বিশ্বকে ভুলে যেতে দেয়া হবে না। মিয়ানমারকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না, চাপ প্রয়োগ করা হবে। এই কথাগুলো বলেছে তাই আমরা রোহিঙ্গারা খুবই খুশি।

আরেক প্রতিনিধি মো. রফিক বলেন, নাগরিক অধিকার ও সম্মানজনক মর্যাদা নিয়ে আমরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। এই জন্য জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের দাবি পক্ষে কাজ করছে এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রয়েছে এই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ সব সময় রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করবে এমন প্রতিশ্রুতিতে আমরা আশা করি, জাতিসংঘ আমাদের স্বদেশে ফেরাতে কাজ করছে।

সাংবাদিকের ব্রিফ শেষে তিনি বালুখালী ৮ ডব্লিউ ক্যাম্পের ওয়াচ টাউয়ার থেকে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর বালুখালী ক্যাম্পে ২২ মার্চের অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তুরস্ক সরকার নির্মিত তুর্কি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে পুনঃর্নির্মিত হাসপাতালের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্যে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন। এই সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন।

উল্লেখ্য, নতুন পুরনো মিলে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪ টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ৩ বছরের বেশি সময় ধরে কয়েকবার চেষ্টা পরও মিয়ানমারের অনীহার কারণে একজন রোহিঙ্গাকেও স্বদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102