বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

শাহপরীর দ্বীপে আসা সেই হাতি দুটিকে বনে ফেরাতে পারেনি

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নাফ নদী সাঁতরে গত রোববার টেকনাফ থেকে আসা দুটি হাতি বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপে ঘোলারচর এলাকায় অবস্থান করছে। বন বিভাগ ও হাতি উদ্ধারকারী দলের লোকজন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সারা রাত হাতি দুটিকে পাহারা দিয়ে রাখছিল লোকজন।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতি দুটিকে নিরাপদে টেকনাফের বনে ফেরাতে পারেনি। সন্ধ্যা ছয়টার সময় হাতি দুইটি শাহ পরীর দ্বীপ ঘোলার চর থেকে পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগরে সাঁতার কেটে চলে যাওয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া পরিবেশ টাওয়ারের পূর্ব পাশে নাফ নদী প্যারাবন এলাকায় হাতি দুটিকে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।

গতকাল বিকেলে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট–সংলগ্ন বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে নাফ নদীতে হাতি দুটি আশ্রয় নেয়। সারা রাত হাতি দুটি পানিতে ছিল। সকালের দিকে হাতি দুটি সাঁতরে সেন্ট মার্টিনের দিকে যেতে চাইলে কোস্টগার্ড সদস্যদের সহযোগিতায় চার–পাঁচটি ট্রলারের মাধ্যমে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হাতি দুটিকে কলাগাছসহ বিভিন্ন ধরনের লতাপাতা খেতে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়স্ক আরও দুটি মা হাতি উদ্ধার করে টেকনাফের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ৪ আগস্ট মিয়ানমার থেকে সাঁতরে একটি মা হাতি এসেছিল। সেটিকে টেকনাফের বনাঞ্চলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

শেষ দুটি হাতি সম্পর্কে সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, হাতি দুটিকে বর্তমানে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের এলাকা দিয়ে টেকনাফে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। হাতি দুটির বয়স ৪০ বছরের বেশি হতে পারে। এগুলোর উচ্চতা ৭ থেকে ৯ ফুট।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি দলছুট হয়ে সাঁতরে নাফ নদী পেরিয়ে আসতে পারে। হাতি দুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক বলেন, গতকাল বিকেলের পর থেকে দুটি হাতি নাফ নদীর চরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করে এলাকায় হাতি আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে একনজর দেখার জন্য শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। বন বিভাগ ও হাতি উদ্ধারকারী দলের কিছু লোকজন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সারা রাত হাতি দুটিকে পাহারা দেয় বন বিভাগের লোকজন। সকাল থেকে আবারও হাতি দুটিকে নিরাপদে টেকনাফের বনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাস্টার জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হাতি দুটি নিয়ে এলাকার মানুষ বিপদে আছেন। এই দুটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নিরাপদে হাতি দুটিকে বনাঞ্চলে স্থানান্তর করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102