রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করবে কে?

সৈকত
  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

‘রবিবার থেকে শপিংমল খোলা। এবার জীবনের শেষ ঈদের বাজার করুন। ব্যবসায়ীদের জীবিকা বাঁচান।’

মার্কেট- শপিং মল খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা জনের এমন প্রচারণা বলা যায় মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। আর মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে পক্ষে- বিপক্ষে যুক্তি- তর্ক এবং তীব্র সমালোচনা।

এই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে কথা হয় কনজ্যুমার এসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি লাফিয়ে বাড়ছে। আরেকটি সপ্তাহ সত্যিকারভাবে লকডাউন পালন করতে পারলে ঝুঁকি অনেকটা কমে আসার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা হল না। মার্কেট-শপিংমল খোলার ঘোষণায় সংক্রমণ-ঝুঁকি ছড়ানোর শঙ্কা বাড়িয়ে দিল।’মার্কেট ও শপিংমল খোলার বিষয়ে কথা হয় নগরীর বিভিন্ন শপিংমলের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। স্বাস্থ্যবিধি মানা বিষয়ে আগের মতো এবার শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন তারা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে সকল মার্কেট কমিটিকে চিঠি দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে অনুরোধ করা হবে। এছাড়াও আমাদের মনিটরিং টিমতো আছেই। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।’

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘করোনায় দেশে অর্থনীতি পঙ্গু করে দিচ্ছে। ক্ষুধার কষ্ট হচ্ছে বড় কষ্ট। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন সীমিত আকারে খুলে দিচ্ছে। উপায়ও নেই। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও জীবন-জীবিন সচল রেখে সীমিত পরিসরে খোলা রাখা দরকার। তবে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সবাইকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হবে।

একই কথা বললেন ব্যস্ততম ও জনবহুল মার্কেট হিসেবে পরিচিত টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নানও। তিনি বললেন, ‘২০২০ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এবারও ক্ষতি হয়েছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে ব্যবসা করার জন্য মালিক ও কর্মচারীদের অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দোকানে ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা মাস্ক পরবে। এবং ক্রেতাদের মাস্ক পরা ছাড়া দোকানে ঢুকতে দেবে না। একই সঙ্গে প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে স্যানিটাইজার নিশ্চিত করা হবে।’ সমিতির পক্ষ থেকে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হবে বলে জানান তিনি। এই নির্দেশনা না মানলে দোকান বন্ধ করে দেব, বলেন সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান।

প্রসঙ্গতঃ গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দোকান, মার্কেট ও শপিং মল খোলার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। মার্কেট-শপিংমল বা বাজার কমিটি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করবে।

করোনাভাইরাস মহামারি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার লকডাউন বা কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছে। চলমান লকডাউনের মধ্যে এবার খোলা হচ্ছে দোকানপাট, মার্কেট ও শপিং মল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
themesba-lates1749691102